যে অভ্যাসগুলো মুমিনের থাকা উচিত
প্রকাশ: 19 March, 2020, 5:12 am |
অনলাইন সংস্করণ

যে অভ্যাসগুলো মুমিনের থাকা উচিত

মুক্তধারা ইসলামী জীবন
মুমিন কখনো নিছক জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য কোনো কাজ করে না। মুমিনের সব কাজ হয় একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য। কিন্তু আল্লাহ যখন কাউকে ভালোবাসতে শুরু করেন, গোটা জগৎ তখন এমনিতেই তার প্রেমে পড়ে যায়। সে আসমান ও জমিনের বাসিন্দাদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন তখন তিনি জিবরাঈল (আ.)-কে ডেকে বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ অমুক বান্দাকে ভালোবাসেন, কাজেই তুমিও তাকে ভালোবাস। তখন জিবরাঈল (আ.)-ও তাকে ভালোবাসেন এবং জিবরাঈল (আ.) আকাশের অধিবাসীদের মধ্যে ঘোষণা করে দেন যে আল্লাহ অমুক বান্দাকে ভালোবাসেন। কাজেই তোমরা তাকে ভালোবাস। তখন আকাশের অধিবাসীরা তাকে ভালোবাসতে থাকে। অতঃপর পৃথিবীতেও তাকে সম্মানিত করার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। (বুখারি, হাদিস : ৩২০৯)

মানুষের স্বভাবজাত চাহিদা হলো তারা জনপ্রিয়তা অর্জন করতে চায়, একটু প্রশংসা পেতে চায়। এই চাহিদা পূরণ করতে হলে একজন মানুষকে আল্লাহর প্রিয় কাজগুলো করতে হবে। রাসুল (সা.)-এর আদর্শ অনুযায়ী জীবন গড়তে হবে। কোনো ব্যক্তি যখন আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর দেখানো পথে জীবন পরিচালনা করবে, সে এমনিতেই সবার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। আজ আমরা আলোচনা করব এমন কিছু অভ্যাস নিয়ে যেগুলো অর্জন করতে পারলে একজন মানুষ সহজে জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।

হিংসা ত্যাগ করা
মানবচরিত্রের যেসব খারাপ দিক আছে তার মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ মারাত্মক ক্ষতিকারক এবং সংক্রামক। এই হিংসা মানুষের সুখময় ও শান্তিপূর্ণ জীবনকে এলোমেলো করে দেয়। তাই ইসলামে অন্যের প্রতি হিংসা পোষণ করা নিষিদ্ধ। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা অবশ্যই হিংসা পরিহার করবে। কারণ আগুন যেভাবে কাঠকে বা ঘাসকে খেয়ে ফেলে, তেমনি হিংসাও মানুষের নেক আমলকে খেয়ে ফেলে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯০৩)

ভ্রাতৃত্বসুলভ আচরণ
পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ ও ভালোবাসার মাধ্যমে সামাজিক শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় থাকে। এ কারণেই মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে মুমিনদের পরস্পর ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখার প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই, সুতরাং তোমরা দুই ভাইয়ের মাঝে মীমাংসা করে দাও।’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত : ১০)

এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন আল্লাহ বলবেন, আমার জন্য যারা একে অন্যকে ভালোবেসেছিলে তারা কোথায়? আমি আজ তাদের আমার ছায়ায় আশ্রয় দেব। আজকের এই দিনে আমার ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া নেই।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৫৬৬)

ভালো কাজে সহযোগিতা করা
মহান আল্লাহ প্রত্যেক মুমিনকে সৎ কাজে আদেশ ও অসৎ কাজে বাধা প্রদানের দায়িত্ব দিয়েছেন। কেউ যখন তার জীবনে এই অভ্যাসটি গড়ে তুলতে পারবে, ভালো কাজে আত্মনিয়োগ ও সহযোগিতা করবে, সে এমনিতেই জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। কোরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা তাকওয়া ও ভালো কাজে পরস্পরের সহযোগিতা করো। পাপাচার ও অন্যায় কাজে সহযোগিতা করো না।’ (সুরা মায়েদা, আয়াত : ২)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুমিন মুমিনের জন্য আয়না স্বরূপ। মুমিন মুমিনের ভাই। সে তার জমি সংরক্ষণ করে এবং তার অনুপস্থিতিতে তাকে হেফাজত করে। (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯১৮)

পরোপকার
মানুষের উপকার করা মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কারণ নিজের স্বার্থকে বড় করে না দেখে অন্যকে প্রাধান্য দেওয়া খুবই কঠিন কাজ। যারা এমন করতে পারবে, তারা অবশ্যই জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। মহান আল্লাহ নিজেই পবিত্র কোরআনে এ ধরনের ব্যক্তিদের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, ‘তারা (আনসাররা) নিজেদের ওপর (মুহাজিরদের) প্রাধান্য দেয়। যদিও নিজেদের প্রয়োজন ও অভাব থাকে।’ (সুরা হাশর, আয়াত : ৯)

কাউকে ছোট বা তুচ্ছ মনে না করা
প্রিয় হওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে—কাউকে ছোট বা তুচ্ছ মনে না করা বরং হাসিমুখে সবাইকে বরণ করা। তেমনি কোনো কাজকেই ছোট মনে না করা। অনেকে তার অধীন বা পদবিতে ছোট অন্য কর্মচারীদের তুচ্ছ ভাবেন, এটা ব্যক্তিত্বহীনতার পরিচায়ক। একজন মুমিন এমনটি করতে পারে না। একদিন প্রিয় নবী (সা.) সাহাবি হজরত আবু জর (রা.)-কে বলেছেন, ‘কোনো ভালো কাজকে তুচ্ছ মনে করবে না। এমনকি তা যদি তোমার ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করার বিষয়েও হয়। (মুসলিম, হাদিস : ২৬২৬)

সামর্থ্য অনুযায়ী উপঢৌকন দেওয়া
সামর্থ্য অনুযায়ী হাদিয়া দেওয়া রাসুল (সা.)-এর সুন্নত। এতে পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) মুমিনদের পারস্পরিক হৃদ্যতার পথনির্দেশ করেছেন এভাবে—‘তোমরা একে অন্যকে হাদিয়া-তোহফা দাও। এতে তোমাদের পারস্পরিক ভালোবাসা সৃষ্টি হবে। (আদাবুল মুফরাদ, হাদিস : ৫৯৪)। যখন কোনো মানুষ আল্লাহর জন্য কাউকে ভালোবেসে হাদিয়া দেবে, তখন সে আল্লাহর সন্তুষ্টির পাশাপাশি মানুষের কাছেও প্রিয় হয়ে উঠবে।

সালাম আদান-প্রদান
মুমিনরা পরস্পর দেখা হলেই সালাম আদান-প্রদান করার মাধ্যমে একে অপরের জন্য দোয়া করে। এর মাধ্যমে পারস্পরিক সম্প্রীতি সৃষ্টি হয়। নেকি অর্জন হয়। এ কারণেই রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা তোমাদের মধ্যে সালামের প্রসার ঘটাও।’ (মুসলিম, হাদিস : ৫৪)।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

 

প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ আজিম হোসেন
ঠিকানাঃ আ: করিম ভবন, রাড়িমহল, চরবাড়িয়া, বরিশাল সদর উপজেলা, বরিশাল।

 

যোগাযোগ
মোবাইলঃ 01782212626
মেইলঃ msuhad@gmail.com

Design & Developed by
  দেশে দাম বৃদ্ধির দিনেই বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানি তেলের দাম   মসজিদে বিএনপি নেতাদের হাস্যজ্জল ছবি ভাইরাল, সমালোচনার ঝড়   সেলিমা রহমান দলে বিভাজন সৃষ্টি করছেন    বাকেরগঞ্জে চাচার বিরুদ্ধে ভাতিজির শ্লীলতাহানির অভিযোগ, নেপথ্যে কাহিনী ভিন্ন   বরিশালে সংঘবদ্ধ ধর্ষনের শিকার গৃহবধূ, আটক ১   মানিক মিয়া মহিলা কলেজ পরিদর্শনে ইসলামী ব্যাংক চেয়ারম্যান   তরুণীকে ধর্ষনের পর হত্যা দুজনের মৃত্যুদণ্ড   যারা একসময় হতাশায় ভুগেছিল, তাঁরা এখন দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছে -প্রধান উপদেষ্টা   বাকেরগঞ্জের সাবেক পৌর মেয়র লোকমান গ্রেফতার   ভারতে আওয়ামী লীগের কার্যালয় বন্ধের আহ্বান ঢাকার, এ বিষয়ে অবগত নয় নয়াদিল্লি   থানায় শেবাচিম সংস্কার আন্দোলনকারীরা, আটককৃতকে ছাড়াতে বিক্ষোভ   লকডাউনে নিম্ন আয়ের মানুষ পাচ্ছে সরকারের ত্রাণ সহায়তা   কোরবানির জন্য প্রায় ১ কোটি ১৯ লাখ গবাদিপশু প্রস্তুত   অনলাইনে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত কেনা যাবে গরু   বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে তেল, চালসহ ৫ পণ্য   শরীরচর্চা কখন করবেন, সকাল না সন্ধ্যায়?   কী হবে লকডাউনে   ছয় লাখ তিন হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট পাস   ক্ষমা চেয়ে আবেদন করলে রাষ্ট্রপতি খালেদাকে মুক্তি দিতে পারেন   ব‌রিশা‌লে সিইসিসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা